ঘুষ চেয়েছে? বেনামে জানান।
আপনার নাম লাগবে না। ইমেইল লাগবে না। ফোন নম্বর লাগবে না। কোনো একাউন্টও খুলতে হবে না।
কীভাবে কাজ করে
- ১ আপনি জানান কোন অফিস, কত টাকা, কী হয়েছিল — কয়েকটি সহজ প্রশ্ন।
- ২ প্রকাশের আগে যাচাই কোনো অভিযোগ সরাসরি প্রকাশ হয় না। নাম, ফোন বা প্রমাণের ফাইল থাকলে একজন মানুষ দেখেন। বাকিগুলো একটি স্বয়ংক্রিয় যাচাই আর AI পড়ে দেখে, কারও পরিচয় না পেলে তবেই প্রকাশ হয়।
- ৩ একই জায়গা বারবার এলে বোঝা যায় কোন অফিসে কতটি অভিযোগ — রঙ দেখেই বোঝা যায়। কারও নাম কখনো নয়।
- ৪ নিজের এলাকা আগে জেলা বেছে নিন বা ফোনের অবস্থান দিন। অবস্থান আপনার ফোনেই থাকে, সার্ভারে আসে না।
"যাচাইকৃত" আর "অযাচাইকৃত" মানে কী
প্রতিটি অভিযোগ একজন মানুষের নিজের বলা কথা। প্রকাশের আগে একজন মানুষ বা একটি স্বয়ংক্রিয় যাচাই দেখে কারও নাম বা পরিচয় আছে কি না। ঘটনাটা সত্যি কি না, সেটা তখন মিলিয়ে দেখা হয় না। তাই বেশিরভাগ কার্ডে লেখা থাকে অযাচাইকৃত।
পরে যদি যাচাইকারী প্রমাণ (রসিদ, রেকর্ডিং, কাগজ), সংবাদের সূত্র বা একই অফিসে একই রকম একাধিক অভিযোগ মিলিয়ে দেখেন, তখন কার্ডে বসে ✓ যাচাইকৃত। এর মানে "মিলিয়ে দেখা হয়েছে", আদালতের রায় নয়। কে যাচাই করলেন, সেটা লেখা হয় না।
অভিযোগকারী ছবি বা কাগজ জমা দিয়ে থাকলে, আর যাচাই এখনো না হলে, কার্ডে থাকে প্রমাণসহ জানানো। প্রমাণ থাকলে অভিযোগ নিজে থেকে প্রকাশ হয় না — একজন মানুষ আগে দেখেন, ছবিতে কারও মুখ বা নাম আছে কি না। প্রমাণটি নিজে কখনো পাবলিকে দেখানো হয় না।
কারও নাম এই সাইট প্রকাশ করে না — অভিযোগকারী লিখলেও না, প্রমাণ থাকলেও না। একমাত্র ব্যতিক্রম: দুদক, আদালত, সরকারি আদেশ বা কোনো সংবাদমাধ্যম যদি আগেই নিজের দায়ে নামসহ প্রকাশ করে থাকে, তখন সেই সূত্রের লিংকসহ নামটি অভিযোগের নিচে জুড়ে দেওয়া হয়। তখন আমরা অভিযোগ করছি না, প্রকাশ্য নথির খবর দিচ্ছি।
একটি অভিযোগ একটি ঘটনামাত্র। একই অফিসে অনেকগুলো জমলে তবেই সেটা প্যাটার্ন। এই সাইট কোনো আদালত নয়, কোনো সরকারি অভিযোগ কর্তৃপক্ষও নয়।
রঙ কী বোঝায়
রঙ আসে গত ৩০ দিনে প্রকাশিত অভিযোগের সংখ্যা থেকে — সব সময়ের মোট থেকে নয়। কারণ এখানে একক হলো অফিস, ব্যক্তি নয়; আর কোনো অফিস শোধরালে রঙও হালকা হওয়া উচিত। সংখ্যা কখনো একা দেখানো হয় না, সাথে সবসময় ব্যাখ্যা থাকে।
- কিছু নেই — কোনো অভিযোগ নেই
- অল্প — ১–২টি
- বেশি — ৩–৪টি
- খুব বেশি — ৫টি বা বেশি
আপনার নিরাপত্তা
- আমরা আপনার নাম, ইমেইল, ফোন বা আইপি ঠিকানা কিছুই রাখি না।
- একই জায়গা থেকে ভুয়া অভিযোগের ঢল ধরতে আইপির একটা একমুখী ছাপ রাখা হয় — ঠিকানাটা নয়। ছাপের চাবি প্রতিদিন মুছে ফেলা হয়, তারপর সেই ছাপ থেকে আইপি বের করার উপায় আমাদের হাতেও থাকে না; তিন দিন পর ছাপটাও মুছে যায়।
- কতজন দেখলেন, কোন পাতা, কোথা থেকে এলেন (শুধু "ফেসবুক" বা "গুগল" জাতীয় নাম), কতবার শেয়ার হলো — শুধু এই সংখ্যাগুলো গোনা হয়। কে দেখলেন, তা নয়।
- ছবি আপলোড করলে তার ভেতরের লোকেশন ও ডিভাইসের তথ্য মুছে ফেলা হয়।
- প্রমাণ কখনো পাবলিকে দেখানো হয় না — শুধু প্রকাশের আগে যিনি দেখেন, তিনিই দেখেন।
- বিবরণে কারও নাম লিখবেন না। লিখলে প্রকাশের আগে সেটি মুছে ফেলা হবে।
- সাইটের পড়ার পাতাগুলোতে ফেসবুকের (Meta) একটি গণনার কোড চলে, বিজ্ঞাপন কতটা কাজ করছে বুঝতে। ফেসবুকে লগইন থাকলে Meta জানতে পারে আপনি এই সাইট দেখেছেন। অভিযোগ ফর্ম, অবস্থা দেখা আর প্রতিকার পাতায় এটি চলে না; কী লিখলেন তা কখনো Meta-র কাছে যায় না।
- অভিযোগ জমা হলে Meta-কে শুধু এটুকু জানানো হয় যে "একটি অভিযোগ জমা পড়েছে" — বিজ্ঞাপন কাজ করছে কি না বুঝতে। ফেসবুকে লগইন থাকলে Meta জানতে পারে জমাটা আপনার ব্রাউজার থেকে এসেছে; কী লিখলেন, কোন অফিস, আপনার কোড — কিছুই যায় না।
- নতুন অভিযোগের বিবরণ (নাম, ফোন বা প্রমাণ ছাড়া) একটি বাইরের AI সেবা একবার পড়ে দেখে কারও পরিচয় আছে কি না। নাম বা ফোন ধরা পড়লে লেখাটা AI-এর কাছে যায়ই না।
ফিডের ক্রম কীভাবে ঠিক হয়
কোনটা আগে দেখবেন তা লুকানো কিছু নয়। নিচে পুরো হিসাব, আর প্রতিটি পোস্টের উপরেই ছোট করে লেখা থাকে কেন ওটা আগে এল।
- নতুন — এইমাত্র আসা অভিযোগ সবার আগে। দিন যত যায়, তত নিচে নামে।
- আপনার জেলায় — নিজের জেলার ঘটনা আগে দেখানো হয়।
- কাছাকাছি — নিজের জেলায় কিছু না থাকলে পাশের জেলার ঘটনা।
- আপনার পছন্দের — যেসব অফিস আপনি দেখতে চেয়েছেন, সেগুলো আগে।
- এখানে বেশি ঘটছে — যে অফিসে অল্প সময়ে অনেক অভিযোগ এসেছে, সেটি একটু উপরে।
- একই অফিস বারবার নয় — একই অফিসের কথা পরপর এলে নিচে নামিয়ে দেওয়া হয়, যাতে একটি অফিস পুরো ফিড দখল না করে।
যা এখানে নেই
টাকার অঙ্ক বড় বা ভাষা কতটা উত্তেজক — এসবের কোনো ভূমিকা নেই। থাকলে ফিডে নাটক উঠত, আসল ছবিটা নয়।
আপনি কী পড়েছেন তা আমরা গুনি না, আপনার কোনো প্রোফাইলও বানাই না। আগ্রহ আপনি নিজে বেছে নেন, আর সেটি আপনার ফোনেই জমা থাকে।
যাঁরা টাকা নেন, তাঁদের জন্য দুটি কথা
এখানে আপনার নাম নেই, থাকবেও না। আমরা কারও নাম প্রকাশ করি না।
কিন্তু আপনার টেবিলে যা ঘটে, মানুষ তা মনে রাখে — আর এখন লিখেও রাখে। একটি অফিসের পাশে সংখ্যা বাড়তে থাকলে সেটি আর একজনের ব্যাপার থাকে না; পুরো দপ্তরের নাম জড়ায়, পাশের চেয়ারে বসা সৎ সহকর্মীটিও তার ভাগ পান।
আজ একজনকে ফিরিয়ে দিলে সেটিও মানুষ মনে রাখবে। সংখ্যাটা কমানো আপনারই হাতে।
বেশিরভাগ কর্মকর্তা সৎ। এই তালিকা তাঁদের বিরুদ্ধে নয় — বরং তাঁদের কাজটা যেন কারও অনিয়মের ছায়ায় ঢাকা না পড়ে, সেজন্যই।
পুরো চিঠিটি পড়ুনকেন কারও নাম থাকে না
টাকা কোনো অফিস নেয় না — নেয় মানুষ। এটা আমরা জানি।
তবু নাম প্রকাশ করি না, কারণ একটি ভুল নাম একজন নিরপরাধ মানুষের চাকরি ও সম্মান শেষ করে দিতে পারে। আর একটি ভুল অভিযোগ প্রমাণিত হলে বাকি হাজারটা সত্য অভিযোগও মানুষ বিশ্বাস করা বন্ধ করে দেয়।
তাই আমরা দেখাই কোথায় বারবার হচ্ছে, কে করেছে তা নয়। নাম ধরে ব্যবস্থা নেওয়ার কাজটা কর্তৃপক্ষের — আর সেই পথটাও অভিযোগ জমা দেওয়ার শেষে দেখিয়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগ মানেই কেউ দোষী প্রমাণিত নয়। এটি একটি স্বচ্ছতার লেজার, কোনো সরকারি অভিযোগ কর্তৃপক্ষ নয়।
সূত্র: মানচিত্রে জেলার সীমানা geoBoundaries (CC BY 4.0) থেকে, সরল করা। জেলা, থানা ও অফিসের তালিকা সরকারি তথ্য বাতায়ন ও বাংলা উইকিপিডিয়া থেকে।
আমরা কারা? আগে বলুন, আপনি কে। উত্তরটা তারপর। →এটি সরকারি কোনো অভিযোগ কর্তৃপক্ষ নয়। বিস্তারিত