দুর্নীতি বুক দুর্নীতি বুক
  • এই নামে অফিস মেলেনি

আমরা কারা?

আগে বলুন, আপনি কে। উত্তরটা তারপর।

কে কী বাছলেন, কোথাও লেখা হয় না। পুরোটা আপনার ফোনেই।

আমি আপনারই ভাই।
যে দেয়, যে নেয়, যে চুপ থাকে, সবার। তাই এই খাতার কোনো নাম নেই; নাম থাকলে মানুষ নামটাকেই খুঁজত, কথাটাকে নয়।

আপনার জন্য

মন্ত্রী

আমি আপনার দেশের একজন নাগরিক। আপনার মন্ত্রণালয়ের নিচের তলায় কী হচ্ছে, কীভাবে হচ্ছে, সেটা আপনাকে জানাতে চাই। দোষ দিতে নয়, আপনার হাতটা শক্ত করতে। আপনার এক সিদ্ধান্তে যা বদলায়, আমরা হাজার অভিযোগেও তা পারি না।

আপনার দপ্তরের নিচের ধাপগুলোতে কী হচ্ছে, সেটা আপনার কানে পৌঁছায় সবার শেষে। এই খাতায় সেটা সবার আগে লেখা হয়, অফিস ধরে ধরে।

একটা সেবা অনলাইনে গেলে দালাল কমে, একটা কাউন্টার বন্ধ হলে টোকেন-বাণিজ্য শেষ হয়। এগুলো আপনার এক সিদ্ধান্তের দূরত্বে।

আপনার দপ্তরের কোন অফিসে কী কৌশলে নেওয়া হয়, নিচের লিংকে দেখুন। ওটাই আমাদের দিক থেকে আপনার জন্য সবচেয়ে কাজের জিনিস।

আমার পরিচয় জানার পর যদি আপনার রাগ ওঠে, তাহলে আপনি নিজেও একজন দুর্নীতিবাজ।

দুবেলা খেতে এত টাকা লাগে না। বেতনে না পোষালে অন্য কিছু করুন। দেশটাকে আর নর্দমা বানাবেন না।

আপনার জন্য

সচিব

আমি আপনার দপ্তরেরই সেবাগ্রহীতা। আপনি যে নিয়ম লেখেন, কাউন্টারে গিয়ে তার কী হয়, সেটা আপনার চোখে পড়ে না। আমরা সেই কাউন্টারের কথাটাই আপনার টেবিলে পৌঁছে দিতে চাই, সেক্টর ধরে, ধাপ ধরে।

নিয়ম আপনি লেখেন। কিন্তু নিয়ম আর কাউন্টারের মাঝখানে যে ফাঁকটুকু, সেটা আপনি অফিস থেকে দেখতে পান না। এই খাতায় সেই ফাঁকটাই মানুষ লিখে রাখে।

কোন সেবায় কোন ধাপে আটকায়, কে আটকায়, কত চায়, সব সেক্টর ধরে সাজানো আছে। সপ্তাহে একবার দেখলেই যথেষ্ট।

আপনার একটা পরিপত্রে যা বদলায়, আমরা হাজার অভিযোগেও তা পারি না। তাই আপনার সাথে কাজ করতে চাই, আপনার বিরুদ্ধে নয়।

আমার পরিচয় জানার পর যদি আপনার রাগ ওঠে, তাহলে আপনি নিজেও একজন দুর্নীতিবাজ।

দুবেলা খেতে এত টাকা লাগে না। বেতনে না পোষালে অন্য কিছু করুন। দেশটাকে আর নর্দমা বানাবেন না।

আপনার জন্য

জেলা প্রশাসক / পুলিশ সুপার

আমি আপনার জেলারই একজন মানুষ। আপনার জেলায় কোন অফিসে কী হচ্ছে, কোন মোড়ে কে চাঁদা তোলে, মানুষ এখানে লিখে রাখে। আপনি চাইলে এটাই আপনার সবচেয়ে সস্তা গোয়েন্দা বিভাগ।

আপনার জেলার একটা পাতা আছে: কোন অফিস, কোন সেক্টর, কত টাকা, মাসে মাসে বাড়ছে না কমছে। ওটা আপনার জন্যই বানানো।

যে জেলায় মানুষ বেশি জানায়, সে জেলা লাল দেখায়। সেটা লজ্জা নয়, মানুষ আপনার ওপর ভরসা রাখছে বলেই মুখ খুলছে।

বিভাগীয় ব্যবস্থা, বদলি, তদন্ত, যে ক্ষমতাগুলো আপনার হাতে, একবার ব্যবহার হলে পুরো জেলা খবর পায়। আমরা সেই খবরটা ছড়াতে চাই।

আমার পরিচয় জানার পর যদি আপনার রাগ ওঠে, তাহলে আপনি নিজেও একজন দুর্নীতিবাজ।

দুবেলা খেতে এত টাকা লাগে না। বেতনে না পোষালে অন্য কিছু করুন। দেশটাকে আর নর্দমা বানাবেন না।

আপনার জন্য

ইউএনও / ওসি

আমি আপনার থানা বা উপজেলারই বাসিন্দা। আপনার গেটের বাইরে কী হয়, ভেতরে কোন টেবিলে ফাইল থামে, মানুষ এখানে লেখে। আপনার কাজটা সহজ করতে চাই, কঠিন নয়। আর আপনার সাথে এলাকাটা বদলাতে চাই।

আপনার অফিসের একটা পাতা আছে এই খাতায়। সেখানে কী লেখা হচ্ছে, কে কোন ধাপে আটকে যাচ্ছে, সপ্তাহে একবার দেখলে অনেক কিছু আগে থেকে জানবেন।

গেটের বাইরে কে দাঁড়িয়ে থাকে, আপনি জানেন। আপনি চাইলে থাকে না, এটাও সবাই জানে।

যে ওসি বা ইউএনও নিজের এলাকা সবুজ করেছেন, তাঁর নাম মানুষ মনে রাখে, বদলির পরও। আমরা সেই নামগুলোই বলতে চাই।

আমার পরিচয় জানার পর যদি আপনার রাগ ওঠে, তাহলে আপনি নিজেও একজন দুর্নীতিবাজ।

দুবেলা খেতে এত টাকা লাগে না। বেতনে না পোষালে অন্য কিছু করুন। দেশটাকে আর নর্দমা বানাবেন না।

আপনার জন্য

সরকারি কর্মকর্তা

আমি আপনারই ভাই, আপনার অফিসের সামনের লাইনে দাঁড়ানো লোকটা। আপনি সৎ, আমরা জানি। পাশের টেবিলের জন্য আপনার চোখেও মানুষ সন্দেহ নিয়ে তাকায়, সেটা বদলাতে চাই। আপনার দপ্তরে কী হচ্ছে, কীভাবে হচ্ছে, তা এখানে খোলা।

আপনি রোজ সকালে সৎভাবে অফিসে যান। এটা আমরা জানি, আর সেটাই সবচেয়ে বড় অবিচার।

কারণ পাশের টেবিলের একজনের জন্য মানুষ আপনার চোখেও সন্দেহ নিয়ে তাকায়। আপনার সারাজীবনের সততাটা ওখানেই মার খায়।

এখানে কারও নাম নেই, আছে শুধু অফিসের নাম। আপনার অফিসের ঘরটা সবুজ থাকলে সেটা আপনারই কাজ।

আমার পরিচয় জানার পর যদি আপনার রাগ ওঠে, তাহলে আপনি নিজেও একজন দুর্নীতিবাজ।

দুবেলা খেতে এত টাকা লাগে না। বেতনে না পোষালে অন্য কিছু করুন। দেশটাকে আর নর্দমা বানাবেন না।

আপনার জন্য

পুলিশ

আমি আপনার থানার এলাকারই একজন। রাত জেগে ডিউটি করেন, সেটা আমরা দেখি। আপনার থানায় কে কীভাবে টাকা চায়, সেটাও মানুষ এখানে লেখে। দুটোই সত্যি। আপনার সাথে মিলে দ্বিতীয়টা কমাতে চাই।

আপনি আমাকে খুঁজছেন। আমি বলি — আমাকে না খুঁজে অপরাধীকে খুঁজুন।

অপরাধ করলে শাস্তি পেতে হয়, এই কথাটা যদি একবার মানুষের মাথায় ঢুকিয়ে দিতে পারেন, অপরাধ নিজে থেকেই কমবে।

আর তাতে আপনার সন্তানও নিরাপদ থাকবে। আপনি যে শহরে ওকে বড় করছেন, সেই শহরটাই তো।

আমার পরিচয় জানার পর যদি আপনার রাগ ওঠে, তাহলে আপনি নিজেও একজন দুর্নীতিবাজ।

দুবেলা খেতে এত টাকা লাগে না। বেতনে না পোষালে অন্য কিছু করুন। দেশটাকে আর নর্দমা বানাবেন না।

আপনার জন্য

কেরানি / অফিস সহকারী

আমি আপনার টেবিলের সামনের লোকটা। জানি বেতন কম, চাপ বেশি। আপনার অফিসে কোন ধাপে কী হয়, মানুষ এখানে লেখে, আপনার নাম নয়, অফিসের নাম। আপনার কাজটা সম্মানের করে তুলতে চাই।

আপনার টেবিলেই ফাইলটা থামে বা এগোয়। মানুষের কাছে আপনিই দপ্তর। এই খাতায় আপনার অফিসের নাম আছে, আপনার নাম কোথাও নেই।

আপনার বেতন কম, এটা সত্যি। আর যে মানুষটা আপনার টেবিলে দাঁড়িয়ে, তার আয় আপনার চেয়েও কম, এটাও সত্যি।

“কাল আসেন” না বলে আজ এগিয়ে দিলে কেউ জানবে না। কিন্তু আপনি জানবেন। ওটাই যথেষ্ট।

আমার পরিচয় জানার পর যদি আপনার রাগ ওঠে, তাহলে আপনি নিজেও একজন দুর্নীতিবাজ।

দুবেলা খেতে এত টাকা লাগে না। বেতনে না পোষালে অন্য কিছু করুন। দেশটাকে আর নর্দমা বানাবেন না।

আপনার জন্য

পিয়ন / অফিস সহায়ক

আমি আপনারই ভাই, একই গ্রামের মানুষ। দরজাটা আপনার হাতে, এটা ছোট কথা নয়। কে কাকে দিয়ে নেয়, সেটা আপনি সবচেয়ে ভালো জানেন। জানাতে চাইলে এই খাতা আপনার, নাম লাগে না।

আপনার হাতে ক্ষমতা কম, কিন্তু দরজাটা আপনার হাতে। মানুষের কাছে ওটাই সবচেয়ে বড় ক্ষমতা।

যে দরজা টাকায় খোলে, সে দরজা গরিবের জন্য বন্ধ। আপনার নিজের গ্রামের মানুষও ওই লাইনে দাঁড়ায়।

কেউ যদি আপনাকে দিয়ে নেয়, সেটা জানানোর জায়গাও এই খাতা। নাম লাগে না, ফোন লাগে না।

আমার পরিচয় জানার পর যদি আপনার রাগ ওঠে, তাহলে আপনি নিজেও একজন দুর্নীতিবাজ।

দুবেলা খেতে এত টাকা লাগে না। বেতনে না পোষালে অন্য কিছু করুন। দেশটাকে আর নর্দমা বানাবেন না।

আপনার জন্য

জনপ্রতিনিধি

আমি আপনার ভোটার। আপনার এলাকায় কোন অফিসে কী হচ্ছে, মানুষ এখানে লেখে। আপনি চাইলে এটাই আপনার এলাকার সবচেয়ে সৎ জনমত জরিপ। আপনার সাথে এলাকাটা ঠিক করতে চাই।

মানুষ আপনার কাছে সুপারিশ চাইতে আসে। আপনি ভাবেন এটাই আপনার ক্ষমতা।

আসলে এটা ব্যর্থতার হিসাব — অফিসটা নিজের কাজ করলে ওরা আপনার কাছে আসতই না।

যেদিন আপনার এলাকার মানুষ সুপারিশ ছাড়াই কাজ সেরে ফিরবে, সেদিন আপনি সত্যিই জিতেছেন।

আপনি যদি কখনো টাকা দিয়ে থাকেন, লজ্জার কিছু নেই। লিখে রাখুন, যাতে পরের জনকে দিতে না হয়।

নাম লাগে না, ফোন লাগে না। শুধু অফিসটা আর ঘটনাটা।

আপনার জন্য

রাজনৈতিক নেতা

আমি সেই মানুষ, যার ভোট আপনার দরকার। আপনার দলের নামে কে কোথায় চাঁদা তোলে, মানুষ এখানে লেখে, দলের নাম সহ, ব্যক্তির নাম ছাড়া। আপনার দলের ভাবমূর্তি বাঁচাতে এই খবরটা আপনারই সবার আগে দরকার।

আপনার একটা ফোনে যে ফাইলটা নড়ে, সেটা ফোন ছাড়াই নড়ার কথা ছিল।

মানুষ আপনাকে সালাম দেয় ভালোবেসে নয়, দরকারে। দরকার ফুরালে সালামটাও ফুরায়।

যেদিন আপনার এলাকার মানুষ আপনাকে ছাড়াই কাজ সেরে ফিরবে, সেদিন তারা আপনাকে ভয় পাবে না — সম্মান করবে।

আপনি যদি কখনো টাকা দিয়ে থাকেন, লজ্জার কিছু নেই। লিখে রাখুন, যাতে পরের জনকে দিতে না হয়।

নাম লাগে না, ফোন লাগে না। শুধু অফিসটা আর ঘটনাটা।

আপনার জন্য

যিনি টাকা নেন

আমি সেই লোকটা, যে টাকাটা গুনে দিয়ে গিয়েছিল। আপনার নাম এখানে নেই, থাকবেও না। কিন্তু অফিসটা আছে, ধাপটা আছে, অঙ্কটা আছে। আপনার সাথে কথা বলতে চাই, রাগ করে নয়।

আপনার নাম আমরা প্রকাশ করি না। করবও না।

কিন্তু যে লোকটা টাকা গুনে দিয়ে বাড়ি ফিরেছিল, সে আপনার মুখটা ভোলেনি।

একদিন আপনার ছেলে জিজ্ঞেস করবে — বাবা, এত টাকা কোথা থেকে আসে। সেদিনের উত্তরটা আজ থেকেই ভেবে রাখুন।

আমার পরিচয় জানার পর যদি আপনার রাগ ওঠে, তাহলে আপনি নিজেও একজন দুর্নীতিবাজ।

দুবেলা খেতে এত টাকা লাগে না। বেতনে না পোষালে অন্য কিছু করুন। দেশটাকে আর নর্দমা বানাবেন না।

আপনার জন্য

দালাল

আমি আপনার খদ্দের। আপনি জানেন কোন কাউন্টারে কী চলে, কোন ফাইল কেন আটকে। সেই জানাটা যদি একদিন এই খাতায় লেখেন, নাম ছাড়া, তাহলে একটা পুরো অফিস বদলে যায়। ভেবে দেখবেন।

আপনি অফিসের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকেন, কারণ ভেতরে একজন আপনার জন্য দরজাটা খুলে রাখে।

কাজটা আপনি করেন না, শুধু টাকাটা হাতবদল করেন। ভাগটা ভেতরেই যায়, দোষটা পড়ে আপনার নামে।

ভেতরের মানুষটা বদলি হয়ে গেলে আপনার হাতে কী থাকে? সেই দিনটার কথা কখনো ভেবে দেখেছেন?

আপনি যদি কখনো টাকা দিয়ে থাকেন, লজ্জার কিছু নেই। লিখে রাখুন, যাতে পরের জনকে দিতে না হয়।

নাম লাগে না, ফোন লাগে না। শুধু অফিসটা আর ঘটনাটা।

আপনার জন্য

ব্যবসায়ী

আমি আপনার মতোই, যাকে ব্যবসা চালাতে রোজ কিছু না কিছু দিতে হয়। ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট, কাস্টমস, চাঁদা, প্রতিটি জায়গায় কত যায় আর কে নেয়, সেটা মিলিয়ে দেখলে একটা বড় ছবি দাঁড়ায়। সেই ছবিটা একসাথে আঁকতে চাই।

আপনি সবচেয়ে বেশি দেন, আর সবচেয়ে কম বলেন। কারণ বললে পরের ফাইলটা আটকে যায়।

এখানে নাম লাগে না, ফোন লাগে না, একাউন্ট লাগে না। কেউ জানবে না কে লিখেছে।

কোথায় কত লাগে সেটা লেখা থাকলে পরেরজন অন্তত জেনে যাবে। না জানা মানুষই সবচেয়ে বেশি দেয়।

আপনি যদি কখনো টাকা দিয়ে থাকেন, লজ্জার কিছু নেই। লিখে রাখুন, যাতে পরের জনকে দিতে না হয়।

নাম লাগে না, ফোন লাগে না। শুধু অফিসটা আর ঘটনাটা।

আপনার জন্য

আইনজীবী

আমি আপনার মক্কেল হতে পারতাম। আদালতের কোন ঘরে কী চলে, পেশকার থেকে জিআরও, আপনি রোজ দেখেন। আপনার চোখটাই এই খাতার সবচেয়ে দামি চোখ। আর যে লিখবে, তার আইনি ঝুঁকি কতটা, সেটা আপনার কাছেই জানতে চাই।

কোথাও সীমা ছাড়িয়ে গেছি মনে হলে বলবেন। জেদ ধরে বসে থাকব না, ঠিক করে নেব।

আপনি ভালো জানেন — আইন জিনিসটা গরিবের জন্যই সবচেয়ে দামি।

কোনো একদিন এমন একজনের পাশে দাঁড়াবেন যার ফি দেওয়ার সামর্থ্য নেই। ওই একটা মামলাই তাকে শেখাবে, আইনটা তারও।

আপনি যদি কখনো টাকা দিয়ে থাকেন, লজ্জার কিছু নেই। লিখে রাখুন, যাতে পরের জনকে দিতে না হয়।

নাম লাগে না, ফোন লাগে না। শুধু অফিসটা আর ঘটনাটা।

আপনার জন্য

চিকিৎসক

আমি আপনার রোগী। ওয়ার্ডে সিট, ওটির সিরিয়াল, বাইরের টেস্ট, কোথায় কে কী নেয়, আপনি জানেন। আপনি চিকিৎসা করেন, বাকিটা আপনার নামে হয়। সেটা আলাদা করে দেখাতে চাই।

আপনি সারারাত জেগে একজনকে বাঁচালেন। বাইরে বেরিয়ে তার ভাই দুইশো টাকা দিয়ে ট্রলিটা পেল।

মানুষ বাড়ি ফিরে দুটো কথাই বলে, আর দ্বিতীয়টাই বেশি বলে।

হাসপাতালের নামের পাশের রঙটা আপনার কাজের নয়। তবু সেটা আপনার গায়েই লাগে।

আমার পরিচয় জানার পর যদি আপনার রাগ ওঠে, তাহলে আপনি নিজেও একজন দুর্নীতিবাজ।

দুবেলা খেতে এত টাকা লাগে না। বেতনে না পোষালে অন্য কিছু করুন। দেশটাকে আর নর্দমা বানাবেন না।

আপনার জন্য

শিক্ষক

আমি আপনার ছাত্র ছিলাম। ভর্তি, বদলি, এমপিও, সার্টিফিকেট, শিক্ষার অফিসে কী হয় আপনি জানেন। আপনি যা শিখিয়েছিলেন, সেটাই এখানে করছি। আপনার সাথে করতে চাই।

একটা শিশু প্রথম কোথায় শেখে যে টাকা দিলে কাজ হয়? বেশিরভাগ সময় বাবার হাত ধরে কোনো অফিসে গিয়ে।

সেই শিক্ষাটা মুছে দেওয়ার সুযোগ আপনার আছে, আর কারও নেই।

একটা ক্লাস, একটা কথা — অনেক সময় ওটুকুই সারাজীবন থেকে যায়।

আমার পরিচয় জানার পর যদি আপনার রাগ ওঠে, তাহলে আপনি নিজেও একজন দুর্নীতিবাজ।

দুবেলা খেতে এত টাকা লাগে না। বেতনে না পোষালে অন্য কিছু করুন। দেশটাকে আর নর্দমা বানাবেন না।

আপনার জন্য

সাংবাদিক

আমি আপনার পাঠক, আর আপনার সোর্স। এখানে সব সংখ্যা পাবলিক, কারও পরিচয় নয়। কোন অফিসে হঠাৎ বেড়েছে, কোন জেলায় কোন সেক্টর, এখান থেকে খোঁজ শুরু করুন। প্রমাণ আমাদের কাছে চাইবেন না, ওসব আমাদের কাছেও নেই।

এখানে যা আছে সব খোলা। নিয়ে যান, কাজে লাগান — অনুমতি লাগবে না।

শুধু একটা কথা মনে রাখবেন: আমরা কিছুই যাচাই করি না, দাবিও করি না। ছাপার আগে যাচাইটা আপনার কাজ।

আপনার একটা প্রতিবেদন যা নাড়াতে পারে, আমাদের হাজারটা পোস্ট তা পারে না।

আপনি যদি কখনো টাকা দিয়ে থাকেন, লজ্জার কিছু নেই। লিখে রাখুন, যাতে পরের জনকে দিতে না হয়।

নাম লাগে না, ফোন লাগে না। শুধু অফিসটা আর ঘটনাটা।

আপনার জন্য

ছাত্র

আমি আপনার মতোই, যার সামনে পুরো দেশটা পড়ে আছে। সার্টিফিকেট তুলতে, ভর্তি হতে, চাকরির ভাইভায়, কোথায় কী চাওয়া হয়, আপনি জানেন। লিখুন, নাম ছাড়া। আপনাদের একশ জন লিখলেই একটা অফিস বদলায়।

আজ যে লাইনে দাঁড়িয়ে আপনার বাবাকে অপমান সইতে হলো, দশ বছর পর আপনিই হয়তো ওই টেবিলের ওপাশে বসবেন।

সেদিন আজকের রাগটা মনে রাখবেন। যেটা আপনার বাবাকে দেওয়া হয়েছিল, সেটা আর কাউকে দেবেন না।

এই তালিকাটা আসলে আপনাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্যই বানানো।

আপনি যদি কখনো টাকা দিয়ে থাকেন, লজ্জার কিছু নেই। লিখে রাখুন, যাতে পরের জনকে দিতে না হয়।

নাম লাগে না, ফোন লাগে না। শুধু অফিসটা আর ঘটনাটা।

আপনার জন্য

প্রবাসী

আমি আপনার দেশের মানুষ, যে আপনার পাঠানো টাকায় চলে। যাওয়ার আগে আর ফেরার পরে, দুই দিকেই আপনার কাছে হাত পাতা হয়। কোথায়, কে, কত, লিখে রাখুন, বিদেশ থেকেই লেখা যায়। আপনার সাথে ওই দরজাগুলো সোজা করতে চাই।

যাওয়ার আগেই শুরু: পাসপোর্টে দালাল, পুলিশ ভেরিফিকেশনে খরচ, মেডিকেলে ফিট সার্টিফিকেটের বাড়তি টাকা, বিএমইটির ছাড়পত্র আর স্মার্ট কার্ডে লাইনের টোকেন, ট্রেনিং সনদে ক্লাস না করেই টাকা, রিক্রুটিং এজেন্সির চুক্তির চেয়ে বেশি আদায়, ভিসা স্ট্যাম্পিংয়ে মধ্যস্থ। বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ডেস্কে কাগজে ভুল ধরে শেষ ধাক্কা।

ফেরার পরে আবার: কাস্টমসে লাগেজ খুলিয়ে বকশিশ, ট্রলি টেনে টাকা, বাইরে গাড়ির দালাল। আর ছুটিতে জমির দলিল বা পাসপোর্ট নবায়নে সেই একই লাইন।

প্রতিটি ধাপের সরকারি ফি নির্দিষ্ট, বাকিটা ঘুষ। প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ৩৩৩, বিমানবন্দরের কল সেন্টার ১৩৬০০। ছুটি শেষে ফেরার আগে দুই মিনিট দিয়ে লিখে যান; আপনার পরে যে যাবে, সে অন্তত জেনে যাবে।

আপনি যদি কখনো টাকা দিয়ে থাকেন, লজ্জার কিছু নেই। লিখে রাখুন, যাতে পরের জনকে দিতে না হয়।

নাম লাগে না, ফোন লাগে না। শুধু অফিসটা আর ঘটনাটা।

আপনার জন্য

কৃষক

আমি আপনার ফসল খাই। ভূমি অফিসে, ইউনিয়ন পরিষদে, ব্যাংকে আপনার কাছে কে কত চায়, লিখে রাখুন, ছোট করে লিখলেও চলে। আপনার সাথে জমির কাগজটা সহজ করতে চাই।

ভূমি অফিস, ইউনিয়ন পরিষদ, ব্যাংকের ঋণ, প্রতিটি জায়গায় আপনার কাছে চাওয়া হয়, কারণ ওরা জানে আপনি চুপ থাকবেন।

এই খাতায় লেখা যায় নাম ছাড়া, ফোন ছাড়া। কেউ জানবে না কে লিখেছে। কিন্তু অফিসটা সবাই জানবে।

নামজারিতে কত লাগে, ভূমি সেবা হটলাইনে ফোন করলে বলে দেয়: ১৬১২২। ওটা আপনার অধিকার, দয়া নয়।

আপনি যদি কখনো টাকা দিয়ে থাকেন, লজ্জার কিছু নেই। লিখে রাখুন, যাতে পরের জনকে দিতে না হয়।

নাম লাগে না, ফোন লাগে না। শুধু অফিসটা আর ঘটনাটা।

আপনার জন্য

রিকশাওয়ালা / দিনমজুর

আমি আপনার রিকশার যাত্রী। মোড়ে মোড়ে কে কত নেয়, আপনি সবচেয়ে ভালো জানেন। কোন মোড়, কত টাকা, এটুকু লিখলেই হয়। আপনার সাথে মোড়গুলো মুক্ত করতে চাই।

দিনে যা আয়, তার একটা ভাগ মোড়ে মোড়ে চলে যায়। মাস শেষে সেটাই একটা বড় অঙ্ক।

কে নিল, কোন মোড়ে, কত, এটুকু লিখলেই হয়। লেখা ছোট হলেও চলে, বানান ভুল হলেও চলে।

আপনার মতো একশ জন লিখলে ওই মোড়টা মানচিত্রে লাল হবে। তখন আর চুপ করে থাকা যাবে না।

আপনি যদি কখনো টাকা দিয়ে থাকেন, লজ্জার কিছু নেই। লিখে রাখুন, যাতে পরের জনকে দিতে না হয়।

নাম লাগে না, ফোন লাগে না। শুধু অফিসটা আর ঘটনাটা।

আপনার জন্য

এমপি / সংসদ সদস্য

আমি আপনার আসনের একজন ভোটার। আপনার এলাকার কোন অফিসে কী চলছে, মানুষ এখানে নিজের ভাষায় লেখে। সংসদে দাঁড়িয়ে যে কথাটা বলবেন, তার প্রমাণ এখানে জমা হচ্ছে, জেলা ধরে ধরে। আপনার সাথে মিলে আসনটা বদলাতে চাই।

মানুষ আপনাকে ভোট দিয়েছে অফিসগুলো ঠিক রাখতে, সুপারিশ লিখে দিতে নয়।

আপনার নাম বলে যারা টাকা তোলে, তারা আপনার ভোট খায়, আপনার সুনাম খায়। এখানে দলের নাম আসে, ব্যক্তির নাম নয়, তাই খবরটা আপনার আগে দরকার।

যে আসনে মানুষ সুপারিশ ছাড়াই কাজ সেরে ফেরে, সেই আসনটা কেউ কেড়ে নিতে পারে না।

আপনি যদি কখনো টাকা দিয়ে থাকেন, লজ্জার কিছু নেই। লিখে রাখুন, যাতে পরের জনকে দিতে না হয়।

নাম লাগে না, ফোন লাগে না। শুধু অফিসটা আর ঘটনাটা।

আপনার জন্য

মেয়র

আমি আপনার শহরের একজন বাসিন্দা। হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, নকশা অনুমোদন, জন্মসনদ, এই কাউন্টারগুলোতে কী চলে, মানুষ এখানে লেখে। শহরটা আপনার সাথে মিলে ঠিক করতে চাই।

শহরের রাস্তা আপনার নামে হয় না, হয় মানুষের ট্যাক্সে। ট্যাক্স দিতে গিয়েই যদি বাড়তি দিতে হয়, রাস্তাটা আর কার?

আপনার অফিসের কোন কাউন্টারে কত লাগে, তা আপনার চেয়ে শহরের মানুষ ভালো জানে। এখানে এসে একবার দেখুন।

যেদিন কেউ আপনার কার্যালয়ে দালাল ছাড়া ঢুকতে পারবে, সেদিন শহরটা সত্যিই আপনার।

আপনি যদি কখনো টাকা দিয়ে থাকেন, লজ্জার কিছু নেই। লিখে রাখুন, যাতে পরের জনকে দিতে না হয়।

নাম লাগে না, ফোন লাগে না। শুধু অফিসটা আর ঘটনাটা।

আপনার জন্য

চেয়ারম্যান (ইউনিয়ন / উপজেলা)

আমি আপনার ইউনিয়নেরই একজন। নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ, ভিজিডি কার্ড, বয়স্ক ভাতা, এসব কোথায় কীভাবে আটকায়, মানুষ এখানে লেখে। আপনার পরিষদটা আপনার সাথে মিলে সহজ করতে চাই।

গ্রামের মানুষ সরকার বলতে আপনাকেই চেনে। আপনার পরিষদে একটা সনদে টাকা লাগলে তারা ভাবে পুরো সরকারটাই এমন।

ভাতার কার্ড কার হাতে যাবে, সেটা তালিকা ঠিক করার কথা, দলের লোক নয়। বাদ পড়া বিধবাটি আপনার প্রতিবেশীই।

যে চেয়ারম্যানের পরিষদে সনদ বিনা পয়সায় মেলে, তাঁর নাম পরের নির্বাচন পর্যন্ত মানুষ মনে রাখে।

আপনি যদি কখনো টাকা দিয়ে থাকেন, লজ্জার কিছু নেই। লিখে রাখুন, যাতে পরের জনকে দিতে না হয়।

নাম লাগে না, ফোন লাগে না। শুধু অফিসটা আর ঘটনাটা।

আপনার জন্য

মেম্বার / কাউন্সিলর

আমি আপনার ওয়ার্ডেরই লোক। আপনি মানুষের সবচেয়ে কাছের প্রতিনিধি। কে কার্ড পায়, কে পায় না, কার সনদ আটকে থাকে, সব আপনার চোখের সামনে। সেই চোখটা এই খাতার পাশে চাই।

ভাতার কার্ডের তালিকায় নাম তোলার বিনিময়ে যে টাকাটা নেওয়া হয়, সেটা গরিবের ভাতা থেকেই যায়।

ওয়ার্ডের মানুষ আপনাকে চেনে নাম ধরে। সেই চেনাটাই আপনার সবচেয়ে বড় সম্পদ, ওটা দিয়ে টাকা তুললে সম্পদটা ফুরিয়ে যায়।

আপনার ওয়ার্ডে কে কোথায় ঘুষ চায়, এখানে দেখুন। তারপর আপনার পরিষদের সভায় সেটাই তুলুন।

আপনি যদি কখনো টাকা দিয়ে থাকেন, লজ্জার কিছু নেই। লিখে রাখুন, যাতে পরের জনকে দিতে না হয়।

নাম লাগে না, ফোন লাগে না। শুধু অফিসটা আর ঘটনাটা।

আপনার জন্য

ঠিকাদার

আমি সেই রাস্তার যাত্রী, যেটা আপনি বানান। টেন্ডার থেকে বিল ছাড় পর্যন্ত কোথায় কত পার্সেন্ট যায়, আপনার চেয়ে ভালো কেউ জানে না। নাম ছাড়া সেটা লিখলে পরের ঠিকাদারকে আর দিতে হয় না। ভেবে দেখুন।

যে পার্সেন্টটা টেবিলের নিচে যায়, সেটা সিমেন্টের বস্তা থেকেই কাটা পড়ে। রাস্তাটা বর্ষায় ভাঙে সে কারণেই।

আপনি দিতে বাধ্য হন, কারণ সবাই দেয়। সবাই দেয়, কারণ কেউ লেখে না।

কোন দপ্তরে বিল ছাড়াতে কত লাগে, এখানে জমা হলে একদিন সেই দপ্তরকেই জবাব দিতে হবে, আপনাকে নয়।

আপনি যদি কখনো টাকা দিয়ে থাকেন, লজ্জার কিছু নেই। লিখে রাখুন, যাতে পরের জনকে দিতে না হয়।

নাম লাগে না, ফোন লাগে না। শুধু অফিসটা আর ঘটনাটা।

আপনার জন্য

ব্যাংকার

আমি আপনার শাখার একজন গ্রাহক। ঋণের ফাইল কোথায় আটকে, কার সই পেতে কী লাগে, আপনি রোজ দেখেন। সেই দেখাটা নাম ছাড়া এখানে লিখলে অনেক ছোট ব্যবসায়ী বেঁচে যায়।

ঋণ পেতে যে পার্সেন্ট দিতে হয়, সেটা ঋণের সুদের ওপর আরেকটা সুদ। ছোট ব্যবসাটা ওখানেই মরে।

যে ঋণ সুপারিশে যায়, সেটা ফেরত আসে না। খেলাপির বোঝা শেষে সৎ আমানতকারীর ঘাড়ে পড়ে।

আপনার শাখায় কে ফাইল আটকে রাখে, আপনি জানেন। এখানে লিখলে আপনার নাম আসে না, অফিসটা আসে।

আপনি যদি কখনো টাকা দিয়ে থাকেন, লজ্জার কিছু নেই। লিখে রাখুন, যাতে পরের জনকে দিতে না হয়।

নাম লাগে না, ফোন লাগে না। শুধু অফিসটা আর ঘটনাটা।

আপনার জন্য

চাকরিপ্রার্থী

আমি আপনার মতোই একজন, একদিন লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। নিয়োগে কত টাকা চাওয়া হয়, কোন দপ্তরে, কোন পদে, এখানে মানুষ লেখে। আপনি যা শুনেছেন বা যা আপনাকে বলা হয়েছে, নাম ছাড়া লিখে যান। পরের প্রার্থী জেনে যাবে।

যে চাকরি টাকায় কেনা হয়, সেই চাকরিতে ঢুকে প্রথম কাজ হয় টাকাটা তোলা। দুর্নীতির চক্রটা এখান থেকেই শুরু।

আপনার কাছে “লাখ টাকা লাগবে” বলা মানুষটা হয়তো দালাল, হয়তো নয়। কোন পদে কত চাওয়া হয়, তা লেখা থাকলে দালাল ধরা পড়ে।

পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পাওয়া মানুষটা সারা জীবন মাথা উঁচু করে অফিসে ঢোকে। ওই মাথাটা বিক্রি করবেন না।

আপনি যদি কখনো টাকা দিয়ে থাকেন, লজ্জার কিছু নেই। লিখে রাখুন, যাতে পরের জনকে দিতে না হয়।

নাম লাগে না, ফোন লাগে না। শুধু অফিসটা আর ঘটনাটা।

আপনার জন্য

অবসরপ্রাপ্ত / পেনশনভোগী

আমি আপনার সন্তানের বয়সী। সারা জীবন চাকরি করে শেষে নিজের পেনশনের ফাইল ছাড়াতে টাকা দিতে হয়, এই লজ্জাটা দেশের। কোন দপ্তরে কী চাওয়া হয়, নাম ছাড়া লিখে যান। পরের মানুষটা আপনার মতোই কেউ।

যে টাকা আপনি ত্রিশ বছর ধরে জমা করেছেন, সেটা তুলতে আবার টাকা লাগবে কেন?

এজি অফিস, হিসাবরক্ষণ অফিস, নিজের পুরোনো দপ্তর, কোথায় কে কত চায়, আপনার অভিজ্ঞতাটাই এই খাতার সবচেয়ে দামি পাতা।

আপনি চুপ থাকলে পরের বছর অবসরে যাওয়া সহকর্মীটিকে একই লাইনে দাঁড়াতে হবে।

আপনি যদি কখনো টাকা দিয়ে থাকেন, লজ্জার কিছু নেই। লিখে রাখুন, যাতে পরের জনকে দিতে না হয়।

নাম লাগে না, ফোন লাগে না। শুধু অফিসটা আর ঘটনাটা।

আপনার জন্য

ড্রাইভার / পরিবহন শ্রমিক

আমি আপনার গাড়ির যাত্রী। কাগজ ঠিক থাকলেও রাস্তায় কেন দাঁড় করানো হয়, কোন মোড়ে কত, বিআরটিএ-তে লাইসেন্স নবায়নে কী লাগে, এসব আপনি রোজ দেখেন। নাম ছাড়া লিখলে পুরো রুটের সবার উপকার।

দিনের প্রথম ভাড়াটা যদি চাঁদায় যায়, বাকি দিনটা আপনি নিজের জন্য নয়, ওদের জন্য চালান।

কাগজ থাকার পরও থামানো হয় কেন? কারণ থামালে টাকা আসে, না থামালে কিছু আসে না। এই হিসাবটা বদলাতে হলে লিখতে হবে কোথায় কত।

কোন মোড়ে কে কত নেয়, তা লেখা থাকলে একদিন ওই মোড়টাই মানচিত্রে লাল হয়ে উঠবে।

আপনি যদি কখনো টাকা দিয়ে থাকেন, লজ্জার কিছু নেই। লিখে রাখুন, যাতে পরের জনকে দিতে না হয়।

নাম লাগে না, ফোন লাগে না। শুধু অফিসটা আর ঘটনাটা।

আপনার জন্য

গার্মেন্টস শ্রমিক

আমি সেই জামা পরি, যেটা আপনি সেলাই করেন। শ্রম অফিসে অভিযোগ দিতে গেলে কী হয়, কারখানায় ঢুকতে কাকে কী দিতে হয়, এসব কেউ লেখে না বলে বদলায়ও না। নাম ছাড়া দুই মিনিটে লেখা যায়।

আপনার বেতন থেকে যে টাকাটা “লাইনম্যান” কেটে নেয়, সেটা আপনার ঘামের দাম।

শ্রম আদালত আপনার জন্য, কিন্তু সেখানে যেতে যদি টাকা লাগে, তাহলে আদালতটা কার?

একজনের অভিযোগে কিছু হয় না। একই কারখানা, একই অফিসের নামে দশজন লিখলে সেটা আর অভিযোগ থাকে না, প্রমাণ হয়ে যায়।

আপনি যদি কখনো টাকা দিয়ে থাকেন, লজ্জার কিছু নেই। লিখে রাখুন, যাতে পরের জনকে দিতে না হয়।

নাম লাগে না, ফোন লাগে না। শুধু অফিসটা আর ঘটনাটা।

আপনার জন্য

গৃহিণী / নারী

আমি আপনার ভাই। বিদ্যুৎ বিল, গ্যাসের সংযোগ, সন্তানের জন্মসনদ, স্কুলে ভর্তি, হাসপাতালের বেড, এই কাউন্টারগুলোতে নারীকে আলাদা করে হয়রানি করা হয়, সবাই জানে, কেউ লেখে না। এখানে নাম ছাড়া লেখা যায়, কেউ জানবে না কে লিখেছে।

কাউন্টারের লোকটা আপনাকে দেখে ভাবে, এ তো বুঝবে না। সে জানে না, আপনি সংসারের হিসাব ওর চেয়ে ভালো রাখেন।

সন্তানের জন্মসনদে টাকা চাওয়া মানে জন্মের দিন থেকেই ওকে ঘুষ শেখানো।

আপনি যা দেখেছেন, সেটা লিখুন। এখানে নাম নেই, ফোন নেই, কেউ বাড়ি এসে জিজ্ঞেস করবে না।

আপনি যদি কখনো টাকা দিয়ে থাকেন, লজ্জার কিছু নেই। লিখে রাখুন, যাতে পরের জনকে দিতে না হয়।

নাম লাগে না, ফোন লাগে না। শুধু অফিসটা আর ঘটনাটা।

আপনার জন্য

এনজিও কর্মী

আমি আপনার প্রকল্পের এলাকার একজন। আপনি মাঠে থাকেন, মানুষের কাছে থাকেন। কোন অফিসে কী চলে, তা আপনার কর্মীরা রোজ শোনে। এই খাতাটা আপনার প্রকল্পের প্রতিবেদনের চেয়ে সৎ, কারণ এখানে কেউ কাউকে খুশি করতে লেখে না।

আপনার সুবিধাভোগীরা যে ভাতা পান, তার একটা অংশ কোথায় যায়, তারা আপনাকে বলে, প্রতিবেদনে লেখে না।

প্রকল্পের অনুমোদন, এনজিও ব্যুরোর ছাড়পত্র, স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা, কোথায় কী লাগে, আপনি জানেন। নাম ছাড়া লিখলে পরের সংস্থাটা বেঁচে যায়।

যে মানুষদের জন্য কাজ করেন, তাদের এই খাতাটা দেখিয়ে দিন। লিখতে দুই মিনিট, নাম লাগে না।

আপনি যদি কখনো টাকা দিয়ে থাকেন, লজ্জার কিছু নেই। লিখে রাখুন, যাতে পরের জনকে দিতে না হয়।

নাম লাগে না, ফোন লাগে না। শুধু অফিসটা আর ঘটনাটা।

আপনার জন্য

ইমাম / ধর্মীয় নেতা

আমি আপনার মুসল্লি। আপনি সপ্তাহে একবার এমন মানুষদের সামনে দাঁড়ান, যাদের কেউ কেউ ঘুষ নেন, কেউ দেন। আপনার একটা খুতবা এই খাতার হাজার পাতার চেয়ে বেশি কাজ করতে পারে।

হারাম রোজগারে কেনা খাবার যে হারাম, এটা সবাই জানে। জানার পরও নেয়, কারণ কেউ মুখের ওপর বলে না।

আপনার সামনের কাতারে যিনি বসেন, তাঁর অফিসে কী চলে, মানুষ এখানে লেখে। একবার দেখুন, তারপর ঠিক করুন জুমার কথাটা কী হবে।

দুর্নীতি বন্ধ হয় ভয়ে নয়, লজ্জায়। লজ্জাটা জাগানোর জায়গা আপনার মিম্বার।

আপনি যদি কখনো টাকা দিয়ে থাকেন, লজ্জার কিছু নেই। লিখে রাখুন, যাতে পরের জনকে দিতে না হয়।

নাম লাগে না, ফোন লাগে না। শুধু অফিসটা আর ঘটনাটা।

আপনার জন্য

সাধারণ মানুষ

আমি আপনারই ভাই। আপনার সাথে যা হয়েছে, লিখে রাখুন, নাম ছাড়া, ফোন ছাড়া। কোথায় কী হচ্ছে, কীভাবে হচ্ছে, সব এখানে খোলা। আর আপনার সাথে দেশের জন্য কিছু করতে চাই।

আপনার জন্যই তো পুরোটা।

যে টাকাটা বাধ্য হয়ে দিয়েছিলেন সেটা আর ফেরত আনা যাবে না। কিন্তু আপনার পরে যে যাবে, সে জেনে যাবে।

দুই মিনিট সময়। নাম লাগে না, একাউন্ট লাগে না। শুধু কী হয়েছিল সেটুকু লিখে যান।

আপনি যদি কখনো টাকা দিয়ে থাকেন, লজ্জার কিছু নেই। লিখে রাখুন, যাতে পরের জনকে দিতে না হয়।

নাম লাগে না, ফোন লাগে না। শুধু অফিসটা আর ঘটনাটা।

আপনার জন্য

হ্যাকার

আপনি খুঁজছেন কে এটা বানাল। ভালো, খুঁজুন। এখানে কারও নাম নেই, আইপি নেই, অ্যাকাউন্ট নেই, তাই ভাঙার মতো কিছু নেই। আপনার দক্ষতা যদি সত্যিই থাকে, সেটা ওদের দিকে ঘোরান, যারা মানুষের কাছ থেকে টাকা নেয়। ওটা কঠিন কাজ, এটা নয়।

স্বাগতম। তবে আগেই বলে রাখি — এখানে চুরি করার মতো কিছু নেই।

নাম নেই, ইমেইল নেই, ফোন নেই, আইপি নেই। অভিযোগকারীর পরিচয় আমরা রাখিই না, তাই ফাঁস করারও কিছু নেই।

ফাঁক পেলে জানাবেন, ঠিক করে নেব। ভেঙে দিলে ক্ষতিটা আমার নয় — যে লোকটা ভয়ে ভয়ে লিখেছিল, তার।

আমাদের খুঁজে কিছু পাবেন না, কারণ আমরা কেউ নই, আমরা সবাই।

যে টাকা নেয়, তাকে খুঁজুন। ওটাই আপনার আসল কাজ, আর ওটাতে আমরা আপনার পাশে।

আপনার জন্য

গোয়েন্দা সংস্থা

আপনি জানতে চান এর পেছনে কে। উত্তর: যারা টাকা দিতে বাধ্য হয়েছে, তারা। এখানে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য জমা হয় না, তাই চেয়েও পাবেন না। আপনার দপ্তরের কাজটা করতে চাইলে সংখ্যাগুলো পাবলিক, কোন অফিসে কতটা, ওখান থেকে শুরু করুন।

আপনাদের কাজ দেশের নিরাপত্তা। আমাদেরও তাই, শুধু অন্য দিক থেকে।

কে লিখেছে জানতে চাইলে বলার কিছু নেই — আমরা নিজেরাই জানি না। নাম, ফোন, আইপি কিছুই রাখা হয় না, ইচ্ছে করেই।

যে দেশে ঘুষ ছাড়া কাজ হয়, সে দেশের মানুষ রাষ্ট্রকে বিশ্বাস করে। সেটা তো আপনাদেরও চাওয়া।

আমাদের খুঁজে কিছু পাবেন না, কারণ আমরা কেউ নই, আমরা সবাই।

যে টাকা নেয়, তাকে খুঁজুন। ওটাই আপনার আসল কাজ, আর ওটাতে আমরা আপনার পাশে।

এটি সরকারি কোনো অভিযোগ কর্তৃপক্ষ নয়। বিস্তারিত