দুর্নীতি বুক দুর্নীতি বুক
  • এই নামে অফিস মেলেনি

প্রতিকার — এরপর কী

যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁর কাছেই অভিযোগ দিয়ে লাভ নেই। তাঁর উপরে কে আছেন, কে কী করতে পারেন, আর কোথায় লিখতে হবে — সব এখানে।

আমরা কোথাও কিছু পাঠাই না, আপনার কোনো তথ্যও রাখি না। চিঠি আপনি নিজে পাঠাবেন।

অভিযোগ যে অফিসের বিরুদ্ধে

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

ঢাকা

  • লিখতে শুরু করুন — পদ, সংক্ষেপ বা ইংরেজি।

পদের নাম লিখলে তাঁর ঠিক উপরের ধাপগুলো দেখাব। কারও নাম লিখবেন না — নাম লেখা থাকলে আমরা প্রকাশ করি না।

কার কাছে যেতে হবে

প্রথমজনকে চিঠি দিন, পরের দুজনকে অনুলিপি। উপরের কেউ দেখছেন জানলে কাজ দ্রুত হয়।

  1. ১

    ইমিগ্রেশন ইনচার্জ (বিশেষ শাখা)

    চিঠি এখানে

    ঢাকা

    ইমিগ্রেশন ডেস্কের দায়িত্বে। কাকে কোন শিফটে বসানো হবে তা তিনিই ঠিক করেন।

  2. ২

    সহকারী কমিশনার, কাস্টমস হাউস

    অনুলিপি

    ঢাকা জেলা

    শুল্ক শাখার অভিযোগ এখান থেকেই তদন্তে যায়।

  3. ৩

    বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক (বেবিচক)

    অনুলিপি

    ঢাকা

    পুরো বিমানবন্দরের দায়িত্বে। কোন ঘটনা কোথায় ঘটেছে তার নথি ও সিসিটিভি তাঁর হাতে।

  4. ৪

    ডিআইজি, বিশেষ শাখা (এসবি)

    সারা দেশ

    দেশের সব ইমিগ্রেশন ডেস্ক বিশেষ শাখার অধীনে। ইমিগ্রেশনের অভিযোগের আসল ঠিকানা এটিই।

  5. ৫

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)

    সারা দেশ

    কাস্টমসের অভিযোগের কেন্দ্রীয় দপ্তর।

  6. ৬

    হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর — যাত্রী অভিযোগ কেন্দ্র

    সারা দেশ

    দেশের সব বিমানবন্দরের কর্তৃপক্ষ।

    যাবে info@hsia.gov.bd-এ। প্রথম বোতাম ফোন বা কম্পিউটারের মেইল অ্যাপ খোলে; না খুললে জিমেইলে খুলুন, বা কপি করে যেখান থেকে পাঠান পাঠিয়ে দিন।

    বিমানবন্দরের নিজস্ব কল সেন্টার ১৩৬০০ — যাত্রী হয়রানির অভিযোগ ফোনেই নেওয়া হয়। বেবিচকের বাকি অভিযোগ জিআরএস দিয়ে।

    যাচাই করা হয়েছে ১৪/০৯/২০২৬ তারিখে।

যেসব ধাপে ইমেইল বা ফোন নেই, সেগুলো এখনো যোগ করা হয়নি। ওই কর্মকর্তার নম্বর নিজের জেলা বা উপজেলার সরকারি ওয়েবসাইটে কর্মকর্তাদের তালিকায় পাবেন।

এখানেও জানাতে পারেন

অফিসে কাজ না হলে, বা সরাসরি জানাতে চাইলে। ফোন করলেই হয়।

  • শাহজালাল বিমানবন্দর কল সেন্টার

    সরাসরি ফোনে অভিযোগ

  • প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক, বিমানবন্দর

    সরাসরি ফোনে অভিযোগ

  • দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)

    ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ নেয়, নিজে তদন্ত করতে পারে

    হটলাইন ১০৬ — টোল ফ্রি, ফোন করলে টাকা লাগে না। নাম না বলেও অভিযোগ করা যায়। ইমেইলে অভিযোগে ঘটনার বিবরণ, সময়, প্রমাণ আর অভিযুক্তের পদ-ঠিকানা দিলে দ্রুত এগোয়।

  • সরকারি অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা (জিআরএস)

    প্রতিটি সরকারি দপ্তরের নিজস্ব অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তার কাছে সরাসরি

    অনলাইনে অভিযোগ দিলে একটি ট্র্যাকিং নম্বর পাওয়া যায়, নিষ্পত্তি না হলে উপরের ধাপে আপিল করা যায়।

লিখলে এরপর কী হয়?

বেশিরভাগ মানুষ লেখে না, কারণ জানে না কী হবে। তাই ধাপগুলো বলে দিচ্ছি।

  1. ১

    সাথে সাথে

    একটি নম্বর পাবেন

    জিআরএসে অনলাইনে দিলে ট্র্যাকিং নম্বর আসে। হাতে দিলে গ্রহণের সিল ও ডায়েরি নম্বর চেয়ে নেবেন। এই নম্বরটাই প্রমাণ যে আপনি দিয়েছেন।

  2. ২

    কয়েক দিনের মধ্যে

    অভিযোগটি একজনের নামে বরাদ্দ হয়

    প্রতিটি দপ্তরে একজন অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা থাকেন। ফাইলটি তাঁর কাছে যায়, আর তাঁকে হিসাব দিতে হয় কতগুলো এল, কতগুলো শেষ হলো।

  3. ৩

    সাধারণত ৩০ দিনে

    জবাব আসার কথা

    তদন্ত হতে পারে, ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে, বা নিষ্পত্তি হয়ে যেতে পারে। জবাব না এলে সেটাও একটা তথ্য — পরের ধাপে যাওয়ার কারণ।

  4. ৪

    জবাব না এলে

    উপরের ধাপে আপিল

    একই চিঠি, সাথে আগের নম্বর ও তারিখ, পাঠিয়ে দিন পরের ধাপে। জিআরএসে আপিলের বোতামই আছে। এখান থেকেই বেশিরভাগ কাজ হয়।

নিয়মটা জেনে নিন

সাতটা ছোট নিয়ম। এগুলো মানলে অভিযোগ হারিয়ে যায় না।

  1. ১

    লিখিতভাবে দিন, মুখে নয়

    মুখের অভিযোগের কোনো প্রমাণ থাকে না। সাদা কাগজে বা ইমেইলে লিখুন — তারিখ, কোন অফিস, কোন পদের লোক, কত টাকা চাওয়া হয়েছিল।

  2. ২

    কপি নিজের কাছে রাখুন

    হাতে দিলে দুই কপি নিয়ে যান। একটি জমা দিন, অন্যটিতে গ্রহণের সিল ও তারিখ নিয়ে নিজের কাছে রাখুন। ইমেইলে দিলে পাঠানো মেইলটি মুছবেন না।

  3. ৩

    উপরের ধাপকে অনুলিপি (সিসি) দিন

    একই চিঠির অনুলিপি ঠিক উপরের কর্মকর্তাকেও পাঠান। যাঁর কাছে অভিযোগ গেল তিনি তখন জানেন — উপরের একজন দেখছেন। এই একটি কাজই সবচেয়ে বেশি কাজে দেয়।

  4. ৪

    নিষ্পত্তির নম্বর চেয়ে নিন

    জিআরএসে দিলে ট্র্যাকিং নম্বর আসে। হাতে দিলে ডায়েরি বা গ্রহণ নম্বর চেয়ে নিন। নম্বর ছাড়া অভিযোগ পরে "পাইনি" বলে দেওয়া যায়।

  5. ৫

    সময় দিন, তারপর উপরে উঠুন

    সাধারণত ৩০ দিন অপেক্ষা করা হয়। জবাব না এলে একই চিঠি আগের অনুলিপিসহ পরের ধাপে পাঠান — আগেরবার কবে, কাকে দিয়েছিলেন সেটি উল্লেখ করে।

  6. ৬

    প্রমাণ থাকলে সঙ্গে দিন, না থাকলেও দিন

    রসিদ, এসএমএস, কল রেকর্ড, ছবি — যা আছে জুড়ে দিন। প্রমাণ না থাকলেও অভিযোগ করা যায়, তদন্তের দায়িত্ব তো তাঁদের।

  7. ৭

    নিরাপত্তা আগে

    হুমকি পেলে অভিযোগ চালিয়ে যাওয়ার আগে ৯৯৯-এ জানান এবং পরিবারের কাউকে বিষয়টি জানিয়ে রাখুন। ভয় লাগলে দুদকের ১০৬-এ নাম না বলেও জানানো যায়।

খসড়া চিঠি

অভিযোগ দেওয়ার সময় যে কোডটা পেয়েছিলেন সেটা দিন। আপনার ঘটনাটা বসিয়ে চিঠিটা লিখে দেব।

ফিডে ফিরে যান

এটি সরকারি কোনো অভিযোগ কর্তৃপক্ষ নয়। বিস্তারিত