দপ্তর ধরে ধরে
সরকারি হাসপাতালে ঘুষ
Government Hospital — bribe reports from Bangladesh
মানুষ বেনামে জানিয়েছেন ৪টি ঘটনা, ৪টি সরকারি হাসপাতাল নিয়ে, ৩টি জেলা থেকে। সাধারণত চাওয়া হয়েছে ৳২,৫০০ (২ হাজার ৫০০ টাকা) — এটি মাঝের অঙ্ক, গড় নয়।
- মোট দাবি করা হয়েছে
- ৳১১,০০০
- ১১ হাজার টাকা
- দিতে হয়েছে
- ৳৯,০০০
- ৯ হাজার টাকা
- না দিয়েও কাজ হয়েছে
- ২৫%
- ১টি ঘটনায়
মানুষ যা জানতে চায়
সরকারি হাসপাতালে সাধারণত কত টাকা ঘুষ চাওয়া হয়?
বেনামে জানানো ৪টি ঘটনার মধ্যিখানের অঙ্কটি ৳২,৫০০ (২ হাজার ৫০০ টাকা)। সবচেয়ে বড় দাবিটি ছিল ৳৫,০০০।
টাকা না দিলে কি কাজ হয় না?
যেসব ঘটনার ফল জানা গেছে, তার ২৫%-এ মানুষ টাকা দেননি। অর্থাৎ না দিয়েও কাজ হয় — অনেকেই পেরেছেন।
সরকারি হাসপাতালে কীভাবে টাকা চাওয়া হয়?
অপারেশনের তারিখ পেতে ওটি স্টাফের খরচ বেড নেই বলে মেঝেতে, খরচ দিলে বেড মৃত্যু বা মেডিকেল সনদে বাড়তি টাকা
সরকারি হাসপাতালে ঘুষ চাইলে কোথায় অভিযোগ করব?
এই সাইটে বেনামে লিখতে পারেন — নাম, ফোন বা পরিচয় কিছুই লাগে না। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা দুদকে (হটলাইন ১০৬) অভিযোগ করা যায়; কার কাছে, কী লিখতে হয় তা "প্রতিকার" পাতায় ধাপে ধাপে দেওয়া আছে।
সরকারি হাসপাতালে কীভাবে নেওয়া হয়
যাওয়ার আগে পড়ে যান — চিহ্নটা চিনলে ফাঁদটাও চেনা যায়।
- অপারেশনের তারিখ পেতে ওটি স্টাফের খরচ অপারেশনের সিরিয়াল দিলে তিন মাস পরের তারিখ। ওটির কেউ একজন বলে খরচ দিলে সামনের সপ্তাহে ঢুকিয়ে দেবে। জরুরি রোগীরা বাধ্য হয়ে দেন।
- বেড নেই বলে মেঝেতে, খরচ দিলে বেড ভর্তির পর বলে বেড খালি নেই, মেঝেতে থাকেন। এক ঘণ্টা পর ওয়ার্ডবয় এসে বলে এক হাজার দিলে বেড ব্যবস্থা হবে। বেড আসলে খালিই ছিল।
- মৃত্যু বা মেডিকেল সনদে বাড়তি টাকা মৃত্যুসনদ বা আঘাতের মেডিকেল সার্টিফিকেট তুলতে গেলে বলে ডাক্তারের সই লাগবে, উনি নেই। খরচ দিলে সই এসে যায়। মামলার মেডিকেল সার্টিফিকেটে খরচ বেশি।
- সরবরাহের ওষুধ নেই, কিন্তু খরচ দিলে আছে ফার্মেসি কাউন্টারে বলে সরকারি ওষুধ শেষ। ওয়ার্ডে খরচ দিলে সেই ওষুধই বের হয়ে আসে।
- টেস্ট বাইরে করাতে দালালের কমিশন সরকারি হাসপাতালে টেস্টের মেশিন নষ্ট বলে বাইরের ডায়াগনস্টিকে পাঠায়, সেখানে কমিশন আছে। একই টেস্ট ভেতরে হলে দশ ভাগের এক ভাগ খরচ।
যেসব সরকারি হাসপাতাল নিয়ে বেশি অভিযোগ
কোন জেলায় বেশি
সদ্য জানানো
-
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
সরকারি অ্যাম্বুলেন্স নষ্ট বলে গেটের বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে তিন গুণ ভাড়া।
৳৩,০০০ টাকা দিয়েছি
-
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল
ভর্তির পর বেড আর ওটির সিরিয়ালের জন্য পাঁচ হাজার। সংবাদে হাসপাতালটাকে ঘুষ-বাণিজ্যের সেবা কেন্দ্র বলা হয়েছে।
৳৫,০০০ টাকা দিয়েছি
-
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
জরুরি বিভাগে দালাল এসে বেসরকারি ক্লিনিকে নিতে চেয়েছে, ভেতরে সিট নেই বলে। দিইনি, মেঝেতে থেকে চিকিৎসা হয়েছে।
৳২,০০০ টাকা দিইনি
-
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
বেড খালি নেই বলে মেঝেতে, এক ঘণ্টা পর আয়া এক হাজার নিয়ে বেড দিয়েছে।
৳১,০০০ টাকা দিয়েছি
সব সংখ্যা মানুষের বেনামে দেওয়া অভিযোগ থেকে, কেউ যাচাই করেনি। কারও নাম এখানে নেই। কীভাবে কাজ করে
এটি সরকারি কোনো অভিযোগ কর্তৃপক্ষ নয়। বিস্তারিত